চট্টগ্রাম চৌকাসিলা বিদ্রোহ ১৯৩০ সালের ১৮ই আগস্ট চট্টগ্রামের চৌকাসিলা জেলায় সংগঠিত হয়েছিল। এই বিদ্রোহটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ ছিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা মুখ্যত যুবসেনার সদস্যদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের একাধিক আর্মি ব্যারাক, পুলিশ স্টেশন, রেল স্টেশন, টেলিগ্রাফ অফিস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে আক্রমণ করেছিল। এই বিদ্রোহের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীনতার আভাস দেখানো এবং শাসকদের ভয় দেখানো।
বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিদ্দেশ্বর চক্রবর্তী। তাঁদের নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন স্বাধীনতা সংগ্রামী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা প্রাক্কার্য পর্যালোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন এবং রাতের অন্ধকারে ব্যারাক ও সরকারি স্থানগুলি অধিকার করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের পরিকল্পনায় ছিল শহরের শাসন প্রতিষ্ঠানগুলিকে শাস্তি দেওয়া এবং জেলা এবং শহরের শাসন নিজেদের হাতে আনার উদ্দেশ্য।
বিদ্রোহটি শীর্ষকান্তিকভাবে সফল হলেও সেটি অনেক দিন ধরে টিকে উঠতে পারেনি। ব্রিটিশ প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাল এবং বিশাল সৈন্য দল প্রেরণ করল। বিদ্রোহীদের অধিকার করা ব্যারাকগুলি পুনরায় ব্রিটিশ শাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হল। অনেক বিদ্রোহী গ্রেপ্তার হল, কিছু মানুষ হতাহত হল। এই বিদ্রোহের ফলে প্রতিবাদ করার নতুন উপায় খুঁজে পেতে এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুবসেনার সদস্যদের আরো উৎসাহী হয়ে উঠতে দেখা গেল। এই ঘটনাটি বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।