প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলে আমরা অনেক কৌশল নিয়ে কাজ করতে পারি যাতে ক্ষতি কমানো যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রস্তুতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি। যেমন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আর্দ্রভূমি গ্রাস প্রায়ই ঘটে। এগুলোর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত জানা থাকলে আমরা পূর্বেই প্রস্তুত থাকতে পারি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ এবং সতর্কতা বার্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি ও অ-সরকারি সংস্থার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় সম্প্রদায়ের জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ। যেমন, বন্যার সময় কোনো স্থানে সুরক্ষিতভাবে আশ্রয় নেওয়া যায়, তা সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন ধরনের ভবনে আশ্রয় নেওয়া উচিত, এটা তাদের জানতে হবে যারা এই ত্যাগভূমিতে থাকেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়। এক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ, স্থানীয় সমিতি, নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতির জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, বন্যা বা আর্দ্রভূমি গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে ভাঙ্গি বা ডাইক গঠন করা, অরণ্য সংরক্ষণ করা, সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সীমার অনুসরণ করা। এছাড়াও, পানি নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা ও রক্ষাবাহিনীর প্রস্তুতি থাকা উচিত। সবশেষে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা, পানি ও খাদ্যের সরবরাহ, এবং মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এসব পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সময় আমরা একটু সহজ ও নিরাপদ থাকতে পারি।