বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয়তাবাদের প্রভাব খুবই গভীর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ভাষার স্বাধিকার, সাংস্কৃতিক আত্মপ্রকাশ এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্বশাসনের দাবীর উপর। এই যুদ্ধে জাতীয় আত্মবোধ এবং সংহত হওয়ার একটি বড় উদাহরণ দেখা গিয়েছিল।
জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় স্বতন্ত্রতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতা নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সংবিধান অনেক পরিবর্তন পায়। জাতীয়তাবাদ একটি শক্তিশালী প্রচার যার মাধ্যমে দেশের গোটা জনগণ একসাথে মিলে যায় এবং দেশের প্রগতির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনেও জাতীয়তাবাদের প্রভাব অনেক দূরপ্রসারী। বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য, চিন্তা এবং প্রকাশনা সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের নিজস্ব পরিচয় এবং ঐতিহ্যের উপর স্বতন্ত্রতার মানসিকতা প্রতিফলিত হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ প্রায়শই মুসলিম পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্কের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়, কারণ বেশিরভাগ বাঙালির ধর্ম হল ইসলাম, তারপরও স্বাধীনতা আন্দোলন এবং রাষ্ট্র তৈরির প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে সাংস্কৃতিক ও ভাষার স্বাধিকারের উপর ভিত্তি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়তাবাদ একটি অবদানমূলক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এটি দেশের পরিকল্পিত উন্নয়ন, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডিং-এর উন্নতির জন্য একটি উত্সাহী ভাব তৈরি করে। জাতীয়তাবাদ একটি শক্তিশালী দেশের প্রতি আরো ভালোবাসার উৎস। তার ফলে, বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ মিলে দেশের স্বার্থের প্রতি প্রচুর যত্ন নেয় এবং দেশের অন্যায় বিরোধিতায় একসাথে দাঁড়ায়।